জাতীয় ডেস্ক।।আজ ২৫ মার্চ। গণহত্যা দিবস—বাংলার ইতিহাসে এক শোকাবহ ও বেদনাময় দিন। ১৯৭১ সালের এই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর চালায় পরিকল্পিত গণহত্যা, যা ইতিহাসে পরিচিত অপারেশন সার্চলাইট নামে।বাংলাদেশ সরকার দিনটিকে জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে, শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
◑২৫ মার্চের কালরাত: শুরু হয় ইতিহাসের নির্মম হত্যাযজ্ঞ:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র মানুষ, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়।বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্র-শিক্ষকদের লক্ষ্য করে চালানো হয় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। একই সঙ্গে পুরান ঢাকা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় সশস্ত্র আক্রমণ।ইতিহাসবিদদের মতে, ওই রাতেই হাজার হাজার নিরীহ মানুষ শহীদ হন।
◑স্বাধীনতার পথে রক্তাক্ত সূচনা:
২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই হত্যাযজ্ঞের পরপরই শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ, যা রূপ নেয় মহান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ–এ।এর পরদিন ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা আসে, এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
◑রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে গণহত্যা দিবস:
প্রতি বছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে গণহত্যা দিবস পালন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২৫ মার্চের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্ববাসী এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হয়।
ইতিহাস স্মরণ, ভবিষ্যতের দায়িত্ব:
গণহত্যা দিবস শুধু শোকের নয়—এটি জাতির আত্মপরিচয়, ইতিহাসচেতনা ও স্বাধীনতার মূল্য উপলব্ধির দিন। শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে দেশবাসী আজও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।