এস.এম.শামীম,দিঘলিয়া খুলনা।।খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিলিং মিটার পুনরায় চালুর দাবিতে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার তাদের জন্য ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দিঘলিয়া নদীবেষ্টিত একটি উপজেলা। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজ ও নিম্ন আয়ের পেশার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, ওজোপাডিকো লিমিটেড উচ্চমূল্যের প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভাষ্য, আগে বিলিং মিটার চালু থাকাকালে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া বা গ্রাহকদের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের সম্পর্কের কোনো অবনতি ঘটেনি। অথচ বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রিপেইড মিটারের সার্ভিস তার বা আউটসোর্সিং তারে সামান্য টান পড়লেও মিটার অটোমেটিক লক হয়ে যায়। পরে সেই লক খুলতে আবেদন ফি, পরিদর্শন ফি ও অন্যান্য চার্জ দিতে হয়। এছাড়া ইলেকট্রিশিয়ানের খরচও বহন করতে হয় গ্রাহকদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বজ্রপাত বা অন্য কোনো কারণে মিটার নষ্ট হলে নতুন মিটার নিতে কয়েক হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। অনেকের দাবি, তিন মাসের মধ্যেই মিটার নষ্ট হলেও নতুন সংযোগ পেতে আবার টাকা দিতে হচ্ছে।
এছাড়া নেটওয়ার্ক বা সার্ভার সমস্যার কারণে টাকা রিচার্জ করলেও অনেক সময় টোকেন আসে না। ভুলক্রমে অন্য নম্বরে টাকা চলে গেলে অফিস থেকেও সন্তোষজনক সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
প্রিপেইড মিটারের এসব সমস্যার কারণে দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিলিং মিটার পুনরায় চালুর দাবিতে পোস্টারিং শুরু হয়েছে।সামাজিক ব্যক্তিত্ব মোল্লা মাকসুদুল ইসলাম বলেন, “উপজেলার অসহায় ও স্বল্প শিক্ষিত মানুষের কথা বিবেচনা করে প্রিপেইড মিটারের পরিবর্তে আগের মতো বিলিং মিটার চালু করা উচিত। এতে জনভোগান্তি কমবে।”
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা নাজমুল হক বলেন, “জনগণের ভোগান্তি কমাতে বিএনপি সবসময় কাজ করছে। প্রিপেইড মিটার নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হবে।”এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা বিদ্যুতের জোনাল অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। কোনো গ্রাহক অভিযোগ করলে তা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশগুপ্ত বলেন, “প্রিপেইড মিটারে জনভোগান্তির বিষয়টি নিয়ে ওজোপাডিকোর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।