সাগর কুমার বাড়ই ,তেরখাদা (খুলনা) প্রতিনিধি।।বিদ্যালয়ের মাঠে পানি, বিদ্যালয় ভবনের টিনের ছাদ দিয়ে অবিরাম পানি পড়া, ফ্লোরে পানি, ক্লাশরুম সংকটসহ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার আর বি আজগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবত চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।
বিদ্যালয়টির সেমিপাকা ভবনের টিনের ছাদে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণি কক্ষের ভিতরে অবিরাম পানি পড়ে। ফলে মাথায় পানি পড়ে, বই খাতা ও পোশাক ভিজে যায়। পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের ঠান্ডা লেগে ঠান্ডা জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতী শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যা চলে আসলেও বিদ্যালয় ভবন সংস্কার অথবা বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।বাধ্য হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই পাঠদান এবং পাঠগ্রহণ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যালয় মাঠের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। বৃষ্টির পানি জমে মাঠটি দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঠ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ভোগান্তি দীর্ঘ দিনের।
পিচ্ছিল মাঠে পড়ে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর জামা কাপড়, বই খাতা, তথা শিক্ষা উপকরণ ভিজে নষ্ট হয়। অনেকে আহত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অফিস রুম আছে যে রুমের ছাদ থেকে বড় বড় পলেস্তারা পড়ছে।
চরম ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকরা অফিসরুমে বসে বিশ্রাম করেন। বিদ্যালয়টি তে বর্তমানে ২৫৭জন শিক্ষার্থী নিয়মিত অধ্যয়ন করছে। প্রধান শিক্ষকসহ ৯জন শিক্ষক নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অংশ নিচ্ছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সন্তোষজনক। এবছরও এ বিদ্যালয় থেকে ৩জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে এবং একজন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে মধুপুর ক্লাস্টারে সেরা ফলাফল দেখিয়েছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংকট, বেঞ্চাভাব এবং জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এমন অভিযোগ অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। স্থানীয় সচেতন মহল ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মহল বিদ্যালয়ের টিনের ছাদ সংস্কার, স্থায়ীভাবে ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের মাঠের পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অনেকেই জানান, একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্বকভাবে ব্যাহত হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসারএম এম মতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যালয়টিতে বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই নানাবিধ সমস্যা বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের মাঠে আরও নীচু এবং অসমতল ছিলো। সেটি খানিকটা নিরসন হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অল্পদিনের মধ্যে উপরিমহলে চাহিদা পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, তেরখাদা-খুলনা সড়কের পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। এখানে বাউন্ডারি ছিলোনা।
অল্প কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা একটু নিরাপদ অবস্থানে আছে। অতিদ্রুত বিদ্যালয় ভবন অনুমোদনের জন্যে চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।