1. adm1n@wordpress.com : adm1n :
  2. info@www.khulnarkhabor.com : khulnarkhabor :
তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ সাতক্ষীরার স্থাপত্য ঐতিহ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন - Khulnar Khabor
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
Copyright © 2022 KhulnarKhobor.com    বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৪৭,আপার যশোর রোড (সঙ্গীতা হোটেল ভবন) ,খুলনা-৯১০০।ফোন:০১৭১০-২৪০৭৮৫,০১৭২১-৪২৮১৩৫। মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
ডেমো নিউজ
দুবাইয়ের কারাগার থেকে বেনজীরের মুক্তি, নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কয়রায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন কেশবপুরে IBWF-এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ যশোরে যুবদলের সমাবেশে যাওয়ার পথে বিএনপি কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ হাসপাতালে ভর্তি দীর্ঘ ৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, দুই মাসের মধ্যেই চালু হচ্ছে কালিয়া সেতু গৌরীঘোনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে চারা বিতরণ ও রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জ মাদ্রাসার নির্মাণাধীন সেফটি ট্যাংকির দেয়াল ধসে আতিয়ার রহমানের মৃত্যু  দিঘলিয়ায় মোটরসাইকেল-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত, আহত আরো ১ জন পাঁজিয়ার মাদারডাঙ্গা দাসপাড়ায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ‘ওয়েভ ইভেন্ট’ অনুষ্ঠিত কেশবপুরে এরশাদের ৭ম মৃত্যু বার্ষিকীতে মিলাদ ও আহ্বায়ক কমিটি গঠন দিঘলিয়ায় জমি দখলের অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের যশোরে মধ্যরাতে যুবতীর ঘরে যুবক বাথরুম থেকে যুবককে উদ্ধার করে গণপিটুনি খুলনার টুটপাড়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি নিহত ডুমুরিয়ায় বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রতারক চক্রের সাড়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ভূক্তভোগীর থানায় লিখিত অভিযোগ কয়রায় লাইসেন্স ও নিবন্ধন ছাড়া বেকারি পরিচালনা, দুই প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা কেশবপুরে দু’দিনে চার মাদককারবারি এবং দুই কাঠ চোর গ্রেফতার কয়রায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিক রিয়াজুলকে হত্যার হুমকি নকশা বদলে নতুন রূপে ভৈরব সেতু, ২০২৯ সালে শেষ হবে নির্মাণ বাগেরহাটে ১১গরু উদ্ধার’সহ আটক -৩ নড়াইলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নছিমন খাদে, চালক নিহত

তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ সাতক্ষীরার স্থাপত্য ঐতিহ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন

  • প্রকাশিত : সোমবার, ৩ মার্চ, ২০২৫
  • ৩৫২ বার শেয়ার হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: এস এম তাজুল হাসান সাদ|| সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার প্রাণকেন্দ্র থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে তেঁতুলিয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন — তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ। স্থানীয়ভাবে ‘মিয়ার মসজিদ’ নামে পরিচিত হলেও, এর পূর্ণ নাম তেঁতুলিয়া খান বাহাদুর কাজী সালামতউল্লাহ জামে মসজিদ। ১৮শ শতকের মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এই মসজিদ আজও অতীতের ইতিহাস আর বাংলার ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে রেখেছে।

মসজিদের গায়ে খোদিত শিলালিপি অনুযায়ী, ১২৭০ বঙ্গাব্দে জমিদার সালামতউল্লাহ খান এটি নির্মাণ করেন। তিনি কলকাতার ‘সিন্দুরে পট্টি’ মসজিদের নকশা অনুসরণ করে মসজিদটি গড়ে তোলেন। সেই সময়ে এটি শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় ছিল না; বরং এটি ছিল জমিদার বংশের গর্বের প্রতীক এবং স্থানীয় মুসলিম সমাজের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।

তেঁতুলিয়া জামে মসজিদের স্থাপত্যে মুঘল ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী শৈলীর অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। মসজিদে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৯ ফুট উঁচু ও ৪ ফুট প্রশস্ত ৭টি দরজা। ছাদে ৬টি গম্বুজ আর আকাশচুম্বী ২০টি মিনার। মসজিদের ভেতরে রয়েছে ১২টি শক্তিশালী পিলার, যা চুন-সুরকি ও চিটাগুড়ের মিশ্রণে গাঁথা হয়েছে — সময়ের সঙ্গে যা এখনও অটুট দাঁড়িয়ে আছে।

মসজিদের ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে ৫০০ জনের বেশি মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। এর জ্যামিতিক নকশা, লতাপাতা খোদাই করা অলংকরণ আর সিমেট্রিক্যাল ডিজাইন যেন প্রতিটি ইটের গাঁথুনিতে ইতিহাসের ছাপ রেখে গেছে। শতবর্ষের বেশি পুরোনো এই মসজিদ শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থান নয়; এটি বাংলাদেশের একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। মসজিদের স্থাপত্যের নিখুঁত কারুকাজ দেখতে প্রতিবছর দূরদূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক ও গবেষক তেঁতুলিয়া গ্রামে ছুটে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, এই মসজিদে রমজান মাসে বিশেষ ইফতার মাহফিল ও ধর্মীয় সভা আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মসজিদের আঙিনা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, আর মানুষ নতুন করে ফিরে যায় মসজিদের ঐতিহাসিক শিকড়ে।

মসজিদের প্রাচীন গঠন রক্ষা করতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণ মিলিতভাবে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে মসজিদের আশপাশে বাগান ও আলোকসজ্জা করা হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে তথ্যফলক স্থাপন ও নির্দেশনা বোর্ড লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যথাযথ সংরক্ষণ করা হলে তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারে।

তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ শুধুই ইট-পাথরের একটি স্থাপত্য নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত স্মারক। সালামতউল্লাহ খানের এই নির্মাণশিল্প বাংলার অতীত গৌরবের কথা মনে করিয়ে দেয়, আর অনন্তকাল ধরে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেবে।

তেঁতুলিয়া গ্রামবাসীদের ভালোবাসা আর ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধায়, এই মসজিদ আজও দাঁড়িয়ে আছে শতাব্দীর সাক্ষী হয়ে — যেন সময়ের ঘূর্ণাবর্তেও অটুট এক আস্থা ও গৌরবের প্রতীক।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:-  ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।