মোঃ আলমগীর হোসেন, নড়াইল সংবাদদাতা।। মধুমতী, নবগঙ্গা, বানকানা নদী বিধৌত ঐতিহ্যবাহী ও সমৃদ্ধ জনপদ লোহাগড়া। শতাব্দী প্রাচীন জনপদ হিসেবে লোহাগড়ার রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
আজও জনপদ জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বহু ঐতিহ্যের স্মারক। যদিও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই নিদর্শন বা স্মারক গুলো আজ ধ্বংসের পথে। এসব স্মারক বা নিদর্শন সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নেই কোন উদ্যোগ।লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল গ্রামের ঐতিহাসিক জোড়বাংলা মন্দিরটি আজও ইতিহাস আর ঐতিহ্যের জীবন্ত স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র লক্ষীপাশা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে ঐতিহ্যবাহী কোটাকোল গ্রামে অবস্হিত জোড়বাংলা মন্দির। এটি নড়াইল জেলার অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামো।
মন্দিরের নির্মাণশৈলী বাংলার অন্যান্য মন্দিরের চেয়ে কিছুটা আলাদা। দুটি ‘কর-চালা’ কাঠামো জোড়-বাংলার আকৃতি গঠনে একত্রিত হয়েছে। পূর্বে প্রথমটি একটি ‘মন্ডপ’ হিসাবে কাজ করে, অন্যদিকে পশ্চিমে ‘গর্ভ-গৃহ’ (গর্ভের ঘর)। উভয় কাঠামো একটি এম-আকৃতির ভল্ট গঠন করে (পাশ থেকে দেখলে)। পশ্চিমমুখী মন্দিরের সামনে একটি বারান্দা রয়েছে। বারান্দায় দুটি কলাম রয়েছে, যা মন্দিরে তিনটি প্রবেশ করে।
জোড়-বাংলা মন্দিরটি রাজা সীতারাম রায়ের দেওয়ান ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেছিলেন। মন্দিরটি পূর্ব দিকে মুখ করে ইট দিয়ে তৈরি ৩০ ফুট বর্গাকার উত্থাপিত প্ল্যাটফর্মে বসে আছে। মন্দিরের ছাদটি দুটি কলস (পাত্র) সমাপ্তি দ্বারা আবৃত। মন্দিরটি অত্যাশ্চর্য পোড়ামাটির অলঙ্করণের জন্য বিখ্যাত। মন্দিরের দেয়াল এবং কলামগুলি বহু পোড়ামাটির ফলক দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে যা উদ্ভিদ এবং প্রাণীজন্তু, প্রাণী, জ্যামিতিক নকশাগুলি এবং হিন্দু পুরাণ থেকে পৌরাণিক দৃশ্যের চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রতিদিন শতশত দর্শনার্থী আসছে ঐতিহাসিক এ নিদর্শন দেখতে। স্থানীয়দের দাবী ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটি সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি।
Copyright © 2022 KhulnarKhabor.com মেইল:khulnarkhobor24@gmail.com।জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।স্মারক নম্বর:- ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৮.২৪২.২২-১২১।এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।